চকরিয়া -লামা সড়কে ব্যরিকেড দিয়ে যানবাহন ডাকাতির ঘটনায় গহীন জঙ্গল থেকে ৫ ডাকাত গ্রেফতার, দেশীয় তৈরি বন্দুক, কার্তুজ ও রামদা উদ্ধার

বিভাগীয় প্রতিবেদক। | অক্টো ২, ২০২৫ | ১২:১০
ছবি: প্রতিবেদক।

চকরিয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী- লামা সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যাত্রীবাহী যানবাহন ডাকাতি ঘটনায় তিনদিন পর চকরিয়া থানা পুলিশ গহীন জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে দেশীয় তৈরি দুটি বন্দুক, কার্তুজ এবং পাঁচটি ধারালো রামদা উদ্ধার করা হয়েছে। চকরিয়া থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদে মঙ্গলবার রাতভর ও গতকাল বুধবার সকালে টানা অভিযান চালিয়ে এসব ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, দীর্ঘদিন ধরে চকরিয়ার ফাসিয়াখালী- লামা সড়ক ডাকাতদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ফাঁসিয়াখালী রিংভং ফরেস্ট বিট থেকে কুমারী ব্রিজ পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকাটি জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই কিংবা নির্জন সময়ে যাত্রীবাহী গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব লুটে নেয় ডাকাতরা।

একইভাবে গত রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক এগারোটার দিকে ওই এলাকায় যাত্রীবাহী একটি পিকআপভ্যান থামিয়ে যাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় ডাকাতেরা।
এ ঘটনার পরপরই চকরিয়া থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার টানা দুইদিন ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গহীন জঙ্গল থেকে সন্দেহভাজনসহ ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করে।

চকরিয়া থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ারের নেতৃত্বে এসআই আরকানুল ইসলাম ও সাকিবের সঙ্গীয় পুলিশ টিমের সদস্যরা দীর্ঘ অভিযানের পর গহীন জঙ্গলের একটি গোপন আস্তানা থেকে লুকিয়ে থাকা ৫ ডাকাতদের গ্রেফতার করে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে দেশীয় তৈরি দুটি বন্দুক, কার্তুজ ও পাঁচটি ধারালো রামদা, রশি, মুখোশসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ডাকাতেরা হলেন চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের উচিতারবিল মুসলিমনগর গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে আবুল কালাম (২৪), নজরুল ইসলামের ছেলে মোবারক আলী (২৫), ফতিয়াঘোনা এলাকার শফর মুল্লুকের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক (২৭), একই এলাকার ফয়েজ আহমদের ছেলে জিসান (২৩) ও বার্মাইয়া জসিম উদ্দিন (২৫)।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “চকরিয়া-লামা সড়কটি পাহাড়ি ও বনাঞ্চল ঘেঁষা হওয়ায় ডাকাতরা প্রায়ই সময় সুযোগ নেয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়। এরইমধ্যে গত রোববার রাতে ডাকাতির ঘটনার পর পুলিশ ওই ডাকাতচক্রকে ধরতে অভিযান শুরু করে।
মঙ্গলবার ও বুধবার গহীন জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্রনহ ৫ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, চকরিয়া লামা সড়কে ডাকাতির ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক মাসে অন্তত কয়েক দফায় ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। অনেক সময় যারা বাঁধা দেয়, তাদের শারীরিকভাবে আঘাত করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী অনেকে বলেন, “ডাকাত আতঙ্কের কারণে সন্ধ্যার পর কেউ একা এই সড়কে যাতায়াত করতে চায় না। আমাদের গাড়ি থামিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ৮/১০ জন ডাকাত ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশের অভিযান আমাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে পুরো চক্র ধরা না পড়া পর্যন্ত ভয় কাটবে না।”

ডাকাত কবলিত পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছে,
ফাঁসিয়াখালী রিংভং ফরেস্ট বিট থেকে কুমারী ব্রিজ পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় ডাকাতরা সাধারণত ১০-১৫ জনের দল নিয়ে পাহাড়ি জঙ্গলে অবস্থান নেয়। পরে তাঁরা সুযোগ বুঝে সড়কের দু’পাশের জঙ্গল থেকে একযোগে বের হয়ে গাড়ি থামায়।
ওইসমঢ যাত্রীদের আতঙ্কিত করতে প্রথমেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হুমকি দেয়। এরপর সবাইকে জিন্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল, গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা বলেন, অনেক সময় গাড়ির ড্রাইভারদেরও মারধর করা হয়, বিশেষ করে যদি তারা গাড়ি না থামানোর চেষ্টা করে।

সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) এএসপি অভিজিৎ দাশ বলেন, ফাঁসিয়াখালী রিংভং ফরেস্ট বিট থেকে কুমারী ব্রিজ পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার করে এবং
সোর্স কাজে লাগিয়ে পুরো চক্রকে ধরার চেষ্টা চলছে।
সেই লক্ষ্যে গ্রেফতার হওয়া ৫ ডাকাতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ##

জি/স

ট্যাগঃ

সূত্র: ইন্টারনেট।