পেকুয়ায় সেতুর কাজ ফেলে উধাও ঠিকাদার, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ
বিভাগীয় প্রতিবেদক। | অক্টো ৪, ২০২৫ | ০২:১০
ছবি: প্রতিবেদক।
এস এম জুবাইদ
কক্সবাজারের পেকুয়ার বারবাকিয়া-রাজাখালী সংযোগ সেতুর নির্মাণকাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি। ঠিকাদার কাজ ফেলে গা–ঢাকা দেওয়ায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ ডাইভারশন সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে এলাকাবাসীর ভোগান্তি দূর করা হোক।
জানা গেছে, পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া-রাজাখালী ইউনিয়নের মধ্যবর্তী টইনের খালের ওপর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রথমে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন এলাকার মানুষ। দুই বছর আগে কাজ শুরু হলেও অল্প কিছু পাইলিংয়ের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় মাস ধরে নির্মাণ পুরোপুরি থেমে আছে। এর ফলে ২ ইউনিয়নের হাজারো মানুষকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ডাইভারশন সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যানবাহন ও পথচারীরা।
উপজেলার প্রকৌশল সূত্র জানায়, রাজাখালী-মগনামা উপকূলীয় সড়কের ওপর মাতামুহুরী শাখা নদীর টইনের খালের ওপর ৪০.০৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭.৩ মিটার প্রস্থের একটি আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে। ২০২১-২২ অর্থবছরে এলজিইডি প্রকল্পটির টেন্ডার আহ্বান করলে ‘মেসার্স আবুল কালাম আজাদ’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৭ কোটি ৯২ লাখ ৫৮ হাজার টাকায় কাজের দায়িত্ব পায়।
এরপর পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ ভেঙে ফেলা হয় এবং বিকল্প হিসেবে পাশের খালের ওপর ডাইভারশন সড়ক নির্মাণ করা হয়। তবে সামান্য কিছু কাজ করার পর ছয় মাস আগে থেকে কাজ বন্ধ হয়ে আছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতু নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সেতুর এক পাশে ডাইভারশন সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। স্থানীয় অন্তত ১০ জন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ঠিকাদার কিংবা সরকারি কর্তৃপক্ষ কেউই আর খোঁজ নেননি।
তারা জানান, পাইলিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু হওয়ার পর থেকে কাজ আর এগোয়নি। এরপর থেকেই ঠিকাদার গা-ঢাকা দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আড়াই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সামান্য কাজ করে ঠিকাদার পালিয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।’
রাজাখালী টেকঘোনা পাড়ার বাসিন্দা আবু ছিদ্দিক বলেন, ‘ব্রিজের কারণে মানুষের কষ্ট বেড়েই চলছে। দ্রুত কাজ শুরু করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয় ইউপির সদস্য মাহবুল আলম বলেন, ‘এই ব্রিজটি এখন মানুষের দুর্ভোগের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সময়ে কাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।’
চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও বারবাকিয়ার বাসিন্দা জেড এম হাসান দ্দৌলা মিনার বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে জনগণ। দ্রুত সংস্কার করে জনগণের দুঃখ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল আলীম বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষের একমাত্র চলাচল এ সেতুর মাধ্যমে হয়। হঠাৎ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থী ছাড়াও যানবাহন চলাচল করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। ডাইভারশন সড়কও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই সেতুটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানাচ্ছি।’
রাজাখালী এয়ার আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহেদ উল্লাহ বলেন, ‘টৈটং থেকে প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করতে হয়। ঠিকাদারের অবহেলায় সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। শিক্ষার্থীরাও কষ্ট নিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করে। সেতুর কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানাচ্ছি।’
বারবাকিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএইচএম বদিউল আলম জিহাদি বলেন, ‘এটি দুই ইউনিয়নের মানুষের জন্য একমাত্র সংযোগ সেতু। কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শেষ করতে হবে।’
পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন বলেন, ‘এই ব্রিজ দিয়ে শুধু বারবাকিয়া-রাজাখালীর মানুষই নয়, চট্টগ্রামের বাঁশখালী ছনুয়া ও আশপাশের ইউনিয়নের মানুষও যাতায়াত করে। কাজ বন্ধ থাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পেকুয়ার প্রকৌশলী সৌরভ দাশ বলেন, ‘আগের ঠিকাদারকে বাতিল করে জরিমানা করা হয়েছে। নতুন টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। এক মাসের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।