লোহাগাড়ায় পূজামণ্ডপে আনসার ভিডিপির ডিউটি বাণিজ্য!
বিভাগীয় প্রতিবেদক। | অক্টো ১, ২০২৫ | ০৪:১০
ছবি: প্রতিবেদক।
লোহাগাড়া প্রতিনিধি:
লোহাগাড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আনসার ও ভিডিপি সদস্য নিয়োগকে ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সদস্যদের বাদ দিয়ে বাইরের উপজেলা থেকে লোক এনে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তালিকায় নাম তুলতে টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক সদস্য ও স্থানীয়রা।
উপজেলার ১১১টি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিটি মণ্ডপে ৮ জন আনসার ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, পদুয়া গুপ্তবাড়ি ও বাসুদেবপাড়া পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালন করছেন বাইরের উপজেলা থেকে আসা সদস্যরা। অথচ সরকারি তালিকায় লোহাগাড়ার স্থানীয় সদস্যদের নাম থাকলেও তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে বুধবার সকালে আধুনগর পালপাড়া কালি মন্দির পূজামণ্ডপ এবং দক্ষিণ আধুনগর ও মধ্যম চুনতি হিন্দুপাড়া পূজামণ্ডপে আনসার ভিডিপির দায়িত্বরত কেউ উপস্থিত ছিলেন না। মন্দিরের পুরোহিত জানান, ভোরে হওয়াে সাথে সাথে আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা চলে যায়। দুপুরে আবার আরেকটি টিম আসে।
ডিউটিরত এক সদস্যকে তালিকা না মেলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নির্লিপ্তভাবে বলেন, আমাকে ফোন করেছে তাই এসেছি। কি তালিকা বুঝি না।
স্থানীয় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের অভিযোগ, পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পেতে ইউনিয়ন কমান্ডারকে ৪-৫শ টাকা দিতে হয়েছে। অনেকেই টাকা না দেওয়ায় তালিকায় নাম থাকা সত্তেও ডিউটি থেকেও বাদ পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করি। এবারও আবেদন করেছিলাম। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় দুই দিন ডিউটি করে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাইরের লোক এনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ফৈজুন্নেছা বেগম নিয়মিত অফিসে আসেন না। ইউনিয়ন কমান্ডার বা পিসিদের দিয়ে যাবতীয় কার্য সম্পাদন করান। দুর্গাপূজার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি অফিসে গেলে অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা বলছেন, ডিউটি বাণিজ্যের কারণে প্রকৃত সদস্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। তাদের প্রশ্ন, বাইরের উপজেলা থেকে এনে দায়িত্বে বসালে স্থানীয় পরিস্থিতি বুঝবেন কীভাবে? কোনো অঘটন ঘটলে দায় নেবে কে?
তাদের দাবি, পূজামণ্ডপের মতো সংবেদনশীল স্থানে টাকার বিনিময়ে দায়িত্ব বণ্টন শুধু অনিয়মই নয়, নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাহিদ/স