কক্সবাজার -১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে এনপিপি’র প্রার্থী হচ্ছেন নুরুচ্ছফা সরকার
বিভাগীয় প্রতিবেদক। | নভে ২৮, ২০২৫ | ১২:১১
ছবি: প্রতিবেদক।
নিজস্ব প্রতিনিধি,পেকুয়া :
কক্সবাজার -১(চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এর দলীয় প্রার্থী হচ্ছেন মো. নুরুচ্ছফা সরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী তালিকায় নুরুচ্ছফা সরকার এর মনোনয়ন প্রায় চুড়ান্ত বলে এনপিপি’র দলীয় সুত্রে প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চকরিয়া-পেকুয়া নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ সংসদীয় আসনটি জেলার চারটি আসনের মধ্যে এটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি এ আসন থেকে বার বার নির্বাচিত এমপি। জাতীয় রাজনীতিতে তিনি বিএনপির নেতাদের মধ্যে অন্যতম মুখপাত্র। ২০০১ সালে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন বিএনপির এ হেভিওয়েট নেতা। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সালাহ উদ্দিন আহমদকে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় স্থায়ী কমিটির এ নেতাকে বিএনপি এ আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন কক্সবাজার শহরের জামায়েতের আমীর আব্দুল্লাহ ফারুক। প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনা চলছে এ আসনে।
গুরুত্বপূর্ণ এ আসন থেকে এবার নতুন মুখ হিসেবে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপির) দলীয় প্রতীক নিয়ে ভোট করবেন মো.নুরুচ্ছফা সরকার। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক। এনপিপির জাতীয় নীতি নির্ধারনী কমিটিতে তাঁর ঠাঁই রয়েছে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক পদে আসীন রয়েছেন। চট্টগ্রাম মহানগর কমিটিতে তিনি এনপিপির সাধারণ সম্পাদক। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব।
চট্টগ্রাম-৮ বোয়ালখালী ও চাঁদগাঁও আসনে ২০২১ সালে উপ-নির্বাচন ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনপিপির প্রার্থী এবং চট্টগ্রাম মহানগরের এনপিপির সভাপতি ও চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজের শিক্ষক অধ্যাপক কামাল পাশা বলেন, আগামি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) তিনশত আসনে প্রার্থী দিবে। তবে প্রায় আসনের প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত। দলের পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থীদের তালিকা চুড়ান্ত করবে। চকরিয়া-পেকুয়া আসনে মো.নুরুচ্ছফা সরকারকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে এটা প্রায় নিশ্চিত বলা যেতে পারে।
জানাগেছে, ২০০৮ সালে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শেখ শওকত হোসেন নিলু এ দলের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১২ সালে নির্বাচন কমিশন এনপিপিকে নিবন্ধন দেন। আম প্রতীক বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে এ দলকে। এরপর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিয়ে ছিল।
মো.নুরুচ্ছফা সরকার এর বাড়ি পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নে। তিনি একজন পেশায় শিক্ষক। চট্টগ্রামের মাধ্যমিক স্তরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন। স্কাউট চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদকও তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম বিভাগের আহবায়কও।
এব্যাপারে এনপিপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সম্ভাব্য জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী মো.নুরুচ্ছফা সরকার বলেন, আমি ইনশাআল্লাহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে প্রার্থী হতে যাচ্ছি। এ মাটি ও মমতার সাথে আমার সম্পর্ক রয়েছে। একটি নিরাপদ ও স্বনির্ভর চকরিয়া পেকুয়া বিনির্মানে কাজ করে যাব। আমি যদি জনগনের ভোটে নির্বাচিত হই কিছু মৌলিক বিষয়কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। এক সাগর রক্তের অবগাহন করে মুক্তিযোদ্ধা ও যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি তা এখনও এর সুফল থেকে জনগন বঞ্চিত। লবণ শিল্পের আধুনিকায়ন, ন্যায্য মুল্য নিশ্চিত, বঙ্গোপসাগরে তীরবর্তী অঞ্চলসমুহে অর্থনৈতিক অঞ্চল, মাতামুহুরী নদীকে টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ নির্মাণসহ মিষ্টি পানির উৎস থেকে ফসল উৎপাদন ও কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য জাতীয় সংসদে অর্থবহ আলোচনা করা হবে। পেকুয়া, চকরিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসারিত হবে। দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ কর্মসংস্থান খাতে যুবসমাজ ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে এ অঞ্চলকে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ত্বরান্বিত করতে কাজ করব। আমার প্রতীক আম। আমি চকরিয়া, পেকুয়াবাসীকে এনপিপি ও আম প্রতীকের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।