পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পাহাড় কাটা থামছে না ফলে পাহাড়ে চলছে নিরব কান্না। দিনরাত নানা কৌশলে চলছে পাহাড় কেটে বালি উত্তোলনের মহাৎসব। চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের পুইছড়ি বিটের অধীনে জুমপাড়া আবদুল্লাহর ঝিরি এলাকা থেকে বেশ কয়েকদিন ধরে বালি উত্তোলন করছে একটি সিন্ডিকেট।
গতকাল সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসি জানান, কতিপয় বিএনপি ও যুবলীগ নেতা যৌথভাবে এ অবৈধ বালি উত্তোলন করছে। পুইছড়ি বিটের অধীনে আবদুল্লাহ ঝিরিতে চকরিয়ার বরইতলী এলাকার এক ব্যক্তির সামাজিক বনায়নের প্লট কেটে কৃত্রিম উপায়ে এ বালি মহাল সৃষ্টি করেছে। টইটং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাবেক এমইউপি সদস্য ও বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি আবুল কাসেম, যুবলীগ নেতা জয়নাল ও রিদুয়ানের নেতৃত্বে পাহাড় কেটে মেশিন দিয়ে পানির কৃত্রিম প্রবাহ সৃষ্টি করে আবার মেশিনের মাধ্যমে বালির স্তুপ করে বিক্রি করছে। পাহাড় কেটে মাটিও বিক্রয় করছে। পাহাড়ের এসব মাটি ব্যবসায়িকভাবে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এতে করে পাহাড়ের শক্ত ভিত দুর্বল হয়ে পাহাড় ধসের ঘটনা বাড়ছে। উজাড় হচ্ছে গাছপালা, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। রিদুয়ানের মালিকানাধীন দুটি গাড়ি করে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে থাকেন। তাদের বিরুদ্ধে বন বিভাগের মামলা দায়ের করা হলেও তাদের ধমানো যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দিনের পর দিন এসব অসঙ্গতি চলমান থাকলেও এগুলো ঠেকানোর দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতায় পাহাড়খেকো ও বালুদস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে মানুষকে উৎসাহিত করছে। পাহাড়ের এসব মাটি ব্যবসায়িকভাবে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। এতে করে পাহাড়ের শক্ত ভিত দুর্বল হয়ে পাহাড়ধসের ঘটনা বাড়ছে। উজাড় হচ্ছে গাছপালা, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এছাড়া একটি পাহাড়খেকো চক্র পাহাড়ের গোড়া খুঁড়ে পাম্প মেশিনে পানি দিয়ে নির্মাণকাজের বালি আহরণের মাধ্যমে পাহাড়ধসের ব্যবস্থা করছে।
এ বিষয়ে পুইছড়ি বিট অফিসার কামরুল হাসান জানান, বালি উত্তোলনের খবর পেয়ে আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এ বিষয়ে বনবিভাগের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, আপনার মাধ্যমে আমি বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।